দক্ষ “মোবাইল অ্যাপস ও গেম ডেভেলপার” তৈরি করবে সরকার।
- Aug 8, 2016
- 3 min read
আমাদের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী। দুইবারের অস্কার বিজয়ী নাফিস ইকবাল, ইউটিউবের কো-ফাউন্ডার জাবেদ করিম, খান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সালমান খানসহ অনেক মেধাবী মুখ বাংলাদেশের সন্তান। ফলে আমরা বলতেই পারি, আমাদের মেধার কোনও ঘাটতি নেই। শুধু দরকার সরকারের নেতৃত্ব এবং সহযোগিতা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার সহযোগিতায় গেমিং খাতে বাংলাদেশের অবস্থান নিশ্চিত করতে ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাই, প্রাইভেট সেক্টরের যারা গেম ডেভেলপার, যারা অ্যাপস ডেভেলপার আছেন আমি তাদেরকে অনুরোধ করব, এটা আপনাদেরই প্রকল্প।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে ‘মোবাইল গেমের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সরকারের আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমেদ পলক এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এতে করে ২৮২ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারব।
গেম ও মোবাইল অ্যাপ ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত করার আহবান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’ শীর্ষক এই প্রকল্পটির লক্ষ্যই হলো গেম ও মোবাইল অ্যাপসের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ আইটি খাত থেকে যে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে মোবাইল গেম ও মোবাইল অ্যাপস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রকল্পটি সরকারের গেমভিত্তিক প্রথম প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তরুণদের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও গেমস ডেভলপমেন্টের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, দক্ষ প্রশিক্ষক গড়ে তোলার মাধ্যমে গেম ও অ্যাপস শিল্পে আমাদের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে গেমের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে ৭টি মোবাইল অ্যাপস ও গেম ডেভেলপমেন্ট একাডেমী স্থাপন; ৩০টি জেলায় স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল অ্যাপস ও গেম ল্যাব, অ্যাপ টেস্টিং ল্যাব ও ট্রেনিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে। এছাড়া, অনলাইন কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স পরীক্ষণ ও বাছাইকরণ; ইন্ড্রাস্ট্রিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, ভেঞ্চার সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ ও কার্যক্রমে সহায়তা করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ৮ হাজার ৭৫০ জনকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাপস ডেভেলপার এবং ২ হাজার ৮০০ জনকে গেমিং এনিমেটর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে ওই ব্রিফিংয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চলতি বছরে বিশ্ববাজারে মোবাইল গেইমের ৯৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। যেখানে মোবাইল গেইমের বাজার রয়েছে ৩৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। সেই বাজার ২০১৮ সালের মধ্যে ১১৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। যেখানে ৪৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আসবে শুধু মোবাইল গেইম থেকে।
সেই বড় বাজারে বাংলাদেশকে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ২৮২ কোটি টাকার ‘মোবাইল গেইম ও অ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ১০ হাজার ডেভেলপার তৈরিসহ সরকার নানা ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে, জানান জুনাইদ আহমেদ পলক।
সেই প্রস্তুতি হিসেবে প্রকল্পটির আওতায় দেশের সাতটি বিভাগীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপস এবং গেইম ডেভেলপমেন্ট একাডেমি, ৩০টি জেলার স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল গেইম ও অ্যাপ ল্যাব, অ্যাপ টেস্টিং ল্যাব ও ট্রেনিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী পলক।
এজন্য পূর্ণাঙ্গ অ্যাপস ডেভেলপার হিসেবে আট হাজার ৭৫০ জনকে এবং গেইমিং অ্যানিমেটর হিসেবে দুই হাজার ৮০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে। এসব কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সহ বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
এছাড়াও প্রকল্পে অধীনে অনলাইন কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স টেস্টিং ও বাছাইকরণ, ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা, ভেঞ্চার সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ ও কার্যক্রমে সহায়তা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে পলক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যারা আছেন তাদের নিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইন্ডাস্ট্রিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।
গত ১৪ জুন মোবাইল গেইম ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ উন্নয়নে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে ২৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
সে সময় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের ১১ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর কথা মাথায় রেখে ‘মোবাইল গেইম ও অ্যাপস ল্যাব’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২০১৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান।
ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার সাহা, বেসিস জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, ভেঞ্চার ক্যাপিটালের পার্টনার শামীম আহসান, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মুনির হাসানসহ আরও অনেকে।
ব্রিফিংয়ের পরে ‘মোবাইল অ্যাপস ও গেইমিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অগ্রযাত্রা’ শিরোনামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।





















Comments